মহেশপুর

ঝিনাইদহের ছেলে ফেন্সী সম্রাট লেলিন জীবননগর পুলিশের হাতে কট

#ঝিনাইদহের চোখঃ

জীবননগর শহরের আলোচিত লেলিনকে জীবননগর থানা পুলিশ ঝিনাইদহ থানার একটি ফেনসিডিল মামলায় গ্রেফতার করেছেন। গ্রেফতারকৃত লেলিনকে বুধবার সকালে ঝিনাইদহ থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

লেলিনের একটি ফেনসিডিলের একটি চালান ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের নিকট আটকের ঘটনায় ঢাকা মুন্সীগঞ্জ ও আশুলিয়ার দু’জন নিরীহ ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। অবশেষে মাদকের প্রকৃত মালিক লেলিন গ্রেফতার হওয়ায় ভোগান্তির শিকার নিরীহ পরিবারে নেমে এসেছে স্বস্তির বাতাস। তাদের বিশ্বাস এবার তারা ন্যায় বিচার পাবেন।

এলাকাবাসী সুত্র জানান, ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার কুশাডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মাস্টারের ছেলে লেলিন(৪৮) শিশু কাল থেকেই জীবননগর শহরে বেড়ে ওঠে। এক সময় লেলিন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিজেকে জড়িয়ে ফেলে নানা অপরাধের সাথে। ইতিমধ্যেই প্রভাবশালী বাবা এক সময় জীবননগর শহরের উপজেলা কোর্টপাড়ায় জমি জায়গা কিনে সেখানে স্থায়ী ভাবে বসতি গড়ে তোলে।

লেলিনের স্ত্রী ওয়েভ ফাউন্ডেশনের একজন কর্মি। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগ ওঠে গোপনে মাদক ব্যবসার। সম্প্রতি উপজেলা গেটে নামমাত্র একটি দোকান দিয়ে ব্যবসার আড়ালে গোপনে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।

তার এ সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে কৌশলে গত ১৪ জুন ফেনসিডিলের একটি চালান জীবননগর জেআর পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু তার ওই চালানটি ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়। চালানটি ডিবি পুলিশ জেআর পরিবহনের বক্স থেকে উদ্ধার করা কালে একই বক্সে রাখা আম ভর্তি তিনটি কাটুনের দাবীদার ঢাকা আশুলিয়ার মকলেচুর রহমানের ছেলে আসাদ ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বৈদ্যারপাড়ার আব্দুল আওয়ালের ছেলে মোক্তার হোসেনকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেন।

জীবননগর পৌর এলাকার লক্ষীপুর ব্রিজপাড়ার আব্দুল কুদ্দুস বলেন,আসাদ ও মোক্তার আমার আত্মীয়। তারা আমার বাড়ী থেকে গত ১৪ জুন যাওয়ার সময় আমি তাদেরকে তিনটি কার্টুনে আম ভর্তি করে জীবননগর জেআর পরিবহনের একটি বক্য্র ৮০০ টাকায় বুকিং দিই। কিন্তু পরিবহনের হেলপাব রতন আমাদের বুকিং করা বক্সে আরো একটি কার্টুন রেখে আমাদের রাখা কার্টুনটি অন্য বক্সে রেখে দেয়। আর এখানে যতসব বিপত্তি। ডিবি পুলিশ যখন কার্টুনের মালিক খোঁজাখুজি করতে থাকেন,তখন আমার ওই আত্মীয়রা সরল বিশ্বাসে কার্টুন তাদের দাবী করেন।

এসময় ডিবি পুলিশ জানায় কার্টুনে ফেনসিডিল আছে। কিন্তু আমার আত্মীয়রা কার্টনে ফেনসিডিল নেই মর্মে পুলিশের সাথে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। এক পর্যায়ে কার্টুনে ফেনসিডিল পাওয়া যায় এবং ডিবি পুলিশ আমার ওই দুই আত্মীয়দের ধরে নিয়ে তাদের নামে মামলা দেয়।

এ অবস্থায় ঘটনার এক পর্যায়ে হেলপার রতন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দেয় যে,উক্ত ফেনসিডিলের প্রকৃত মালিক লেলিন এবং সে ফেনসিডিল ভর্তি কার্টুনটি আমের কার্টুনের বক্য্রে রেখেছিল। জীবননগর থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে লেলিনকে গ্রেফতার করেন এবং বুধবার সকালে ঝিনাইদ পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।

জীবননগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাহিরুল ইসলাম বলেন,ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি পত্র প্রাপ্ত হয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বুধবার রাতে লেলিনকে গ্রেফতার করে ঝিনাইদহ পুলিশে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে। আমাদের জানামতে লেলিনের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ আছে। তবে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণের অভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button