কালীগঞ্জ

কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ে খাক প্রতিবন্ধীর একমাত্র অবলম্বন

হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহের চোখ-

বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তানজীল এই দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎপিষ্ট হয়ে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়। তখন থেকেই এই দোকানটি ছিল তার জীবন চলার একমাত্র অবলম্বন ।

কালীগঞ্জ পৌরসভার বাকুলিয়া গ্রামের তানজিল ইসলাম একজন অসহায় প্রতিবন্ধী। যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ ব্রাক এনজিও অফিসের সামনে তার একটি ছোট্টো টোং দোকান। বিধবা মা ও ভাইকে নিয়ে কোনো মতে চলতো তার সংসার। কিন্তু রাত ৮ টার দিকে হঠাৎ তার দোকানে আগুন লেগে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন দোকানের মালিক তানজিল ইসলাম (২৬) বাকুলিয়া গ্রামের মৃত আবু সামার ছেলে। মা কুলসুম বেগমের পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে। ছোট দুই সন্তান তানজীল ইসলাম ও আলামিনকে নিয়েই তাদের সংসার। এই দোকানটিই ছিল তার সংসারের এক মাত্র অবলম্বন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দূর থেকে হঠাৎ করে আগুন দেখে এগিয়ে এসে দেখি প্রতিবন্ধী তানজীলের দোকানে আগুন লেগেছে। সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা আসতে আসতেই চোখের সামনেই পুড়ে যাই দেকানটি। কয়েকজন পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবন্ধী দোকানদার তানজীল ইসলাম জানান, গতকাল প্রথম তারাবি হওয়ায় আমি এশার আযানের পরপরই দোকান ভালোভাবে বন্ধ করে মসজিদে যায় নামাজ আদায়ের জন্য। মসজিদ থেকে এসে দেখি আমার দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন প্রতিবন্ধী তানজীল। এই দোকান থেকে অর্জিত আয়ে আমার সংসার চলত। আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, কোনরকমে ছোট ভাই ও মাকে নিয়ে এই দোকানের উপর দিয়েই চলছিলাম। আমার দোকানে ৩৫ হাজার টাকার মতো মাল ও নগদ প্রায় চার হাজার টাকা ছিল, যা আগুনে পুড়ে গেছে। বিদ্যুতের মাধ্যমে আগুন লেগেছে বলে আমি ধারনা করছি। সম্ভবত বৈদ্যুতিক কোন ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। আমার সর্বস্ব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এখন আমি কিভাবে সংসার চালিয়া বেঁচে থাকব?

কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ জানান, বিদ্যুৎ লাগার সংবাদ শুনে দ্রুত আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য ততক্ষণে দোকানটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button